দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ওয়াশিংটনে স্বাক্ষরিত নতুন কাঠামোগত চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে হিজবুল্লাহ। সংগঠনটির প্রধান নাইম কাসেম চুক্তিটিকে ‘অপমানজনক, লজ্জাজনক এবং সার্বভৌমত্বের আত্মসমর্পণ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। একই সময়ে দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে অন্তত একজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন।
শনিবার (২৭ জুন) এক বিবৃতিতে নাইম কাসেম বলেন, ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহারকে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, ‘দখলদার ইসরায়েলকে পরাজিত করতে আমরা প্রতিরোধ চালিয়ে যাব। কঠিন পরিস্থিতিতেও আমরা মাঠ ছাড়িনি, ভবিষ্যতেও ছাড়ব না।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই চুক্তির মাধ্যমে লেবানন সরকার ইসরায়েলের দখলদারিত্বকে দীর্ঘমেয়াদে বৈধতা দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে লেবাননের ভূখণ্ড ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ইঙ্গিত দেন, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েল লেবাননে অবস্থান বজায় রাখবে। এমনকি নিরস্ত্রীকরণের পরও নিরাপত্তার স্বার্থে সেখানে সেনা মোতায়েন থাকতে পারে।
শনিবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানান, দক্ষিণ লেবাননের তথাকথিত নিরাপত্তা অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের প্রস্তুতি নিতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নতুন চুক্তিতে ইসরায়েলকে দক্ষিণ লেবানন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে সেনা প্রত্যাহারের কোনো শর্ত নেই। বরং এতে দুই দেশ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের অধিকার স্বীকার, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সরাসরি আলোচনা, স্থায়ী যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং একটি বিস্তৃত শান্তি ও নিরাপত্তা চুক্তির খসড়া তৈরির বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর শুক্রবার সন্ধ্যায় বৈরুতে বিক্ষোভে নামেন হিজবুল্লাহ সমর্থকরা। তারা টায়ারে আগুন ধরিয়ে বিমানবন্দরের সড়ক অবরোধ করেন। তাদের দাবি, ইসরায়েলি সেনা এখনও লেবাননের ভূখণ্ডে অবস্থান করছে এবং দক্ষিণাঞ্চলে হামলাও অব্যাহত রেখেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শনিবার লেবাননের সেনাবাহিনী জনগণকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানায়। এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী জানায়, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।
এদিকে, বৈরুতের পাবলিক প্রসিকিউটর বিচারক আহমাদ রামি আল-হাজ নিরাপত্তা বাহিনীকে বিক্ষোভ-সহিংসতা ঠেকাতে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
চুক্তি সত্ত্বেও শনিবার দক্ষিণ লেবাননের মারকাবা ও নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এলাকায় একাধিক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সর্বশেষ হামলায় একজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন।
মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ২ মার্চ পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার ২৪৬ জন নিহত এবং ১২ হাজার ১৯০ জন আহত হয়েছেন।
তবে চুক্তি নিয়ে লেবাননের রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দেশটির সংসদ সদস্য ও সাবেক বিচারমন্ত্রী আশরাফ রিফি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘লেবানন অবশেষে একটি রাষ্ট্রের মতো আচরণ করছে।’ অন্যদিকে, ফ্রি প্যাট্রিয়টিক মুভমেন্টের নেতা জেবরান বাসিল বলেন, চুক্তিটি দায়িত্বশীলভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, জাতিসংঘে ইসরায়েলের সাবেক কূটনীতিক অ্যালন পিনকাস এই চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, মূল সমস্যা লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে নয়, বরং হিজবুল্লাহকে ঘিরে।
সাবেক মার্কিন কূটনীতিক নাবিল খুরি বলেন, চুক্তিটি ইসরায়েলের জন্য সুবিধাজনক হলেও লেবাননের জন্য ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’।
এদিকে হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য হাসান ফাদলাল্লাহ সতর্ক করে বলেছেন, ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় হওয়া এই চুক্তি বাস্তবায়নে লেবাননের সেনাবাহিনী বলপ্রয়োগ করলে দেশটি গৃহযুদ্ধের মুখে পড়তে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/